ছোট একটি শব্দ। কিন্তু তার ক্ষমতা অনেক। কেঁড়ে নিতে পারে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো। বাঁধিয়ে দিতে পারে একে অপরের মধ্যে কলহ। পরিবারকে নিতে পারে ধ্বংসের কিনারে। ধাবিত করতে পারে মৃত্যুর দিকে। নানা অঘটনের ঘটক হলো সন্দেহ।
তিল তিল করে গড়ে ওঠা সুখ নিঃশেষ করার জন্যে সন্দেহই যথেষ্ট। সন্দেহ বিভিন্ন রূপে আমাদের সম্পর্কে অনুপ্রবেশ করে। এটা কারো কারো মধ্যে থাকে স্বাভাবিক পর্যায়ের। আবার কারো মধ্যে প্রকাশ পায় অস্বাভাবিক অসুস্থতা রূপে। এখন জেনে নিই, কী কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং এর সহজ সমাধান:
পারস্পরিক সম্মান : বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রী একটি অভিন্ন সংসার জীবনে প্রবেশ করলেও প্রত্যেকেরই রয়েছে পৃথক ব্যক্তিসত্ত্বা, পৃথক চিন্তা-ভাবনা, পৃথক চাওয়া-পাওয়া। যখন এই পৃথক সত্ত্বাটির প্রতি পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া থাকে না এবং ছাড় দেয়ার কোন মানসিকতা গড়ে উঠে না তখনই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হয় সন্দেহ।
অবস্থানগত সমস্যা : কর্মস্থলে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সু-সম্পর্ক তৈরির ভিত্তিতে নারী পুরুষ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাঞ্চনীয়। কিন্তু অনেক দাম্পত্য জীবনে এটা হয়ে উঠে অশান্তির কারণ। অনেকের মধ্যে সন্দেহবাতিক রয়েছে। তারা স্ত্রীকে বা স্বামীকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন এবং অন্য কারো সঙ্গে কথা বলাটাকে সন্দেহের চোখে দেখেন। আর এই সন্দেহের পেছনে থাকে না কোনো যৌক্তিক কারণ বা প্রমাণ। এটা এক ধরনের মানসিক রোগ।
অতীতের সর্ম্পক : বিয়ের আগে স্বামী বা স্ত্রী যে কারো প্রেমের সম্পর্ক বা গোপন বিষয় থাকতেই পারে। কিন্তু বিয়ের পরে উভয় পক্ষই যদি এই বিষয় অনুসন্ধান এবং পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেন তবে সেটা শুধু জটিলতা সৃষ্টি করবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতকে ঘিরেই দু’জনের সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। অতীতকে নিয়ে নয়। তাই অতীতে কি হয়েছে এসব নিয়ে কারোই মাথা ঘামান উচিত না। এমনকি এগুলো পরস্পরকে বলারও কিছু নাই। অতীত সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হওয়া যায় না, এগুতে হবে ভবিষ্যত ঘিরে।
নেতিবাচক চিন্তা : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুধু ভালবাসা থাকলেই যে সংসারের বন্ধন দৃঢ় হবে সেটা কিন্তু নয়। অনেকসময় পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে যে কোনো একজনের মনে অপরজনকে নিয়ে জন্ম নিতে পারে ভয়, ঈর্ষা অথবা হীনম্মন্যতা । এহেন নেতিবাচক আত্মধারণা পরবর্তীতে সন্দেহ রূপে প্রকাশ পায়, যা মানসিক যন্ত্রণা দেয় দুজনকেই।
তৃতীয় পক্ষ : দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে তৃতীয় পক্ষের প্রভাব। অথবা স্বামী স্ত্রীর ভুল বুঝাবুঝির জন্য তৃতীয় পক্ষকে (আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী) জড়ানো হয়। এই বিষয়টিও সুখের সংসারে সন্দেহ হয়ে ঘর বাধে এবং ধীরে ধীরে ভয়াল ব্যধির মতো নিঃশেষ করে দিতে চায় মধুর স্মৃতিগুলোকেও।
তাই সম্পর্কের জটিলতায় সবসময় সরাসরি কথা বলুন। কাউকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন না। কারণ সর্ম্পক যত সরাসরি হবে, ভুল বুঝাবুঝি তত কম হবে।
আত্মউপলব্ধি : স্বামী/ স্ত্রী যে কারো এটা হতে পারে যে, তিনি তার এই প্রিয় মানুষটিকে অহেতুক সন্দেহ করেন। এটা যে সঠিক হচ্ছে না, সেটা বুঝতেও পারেন। কিন্তু কোনোক্রমেই সন্দেহের জাল থেকে বের হতে পারেন না। পরবর্তীতে এই নিয়ে তার মনে একটা কষ্ট এবং এ থেকে অনুশোচনা সৃষ্টি হয়।
আসলে একে অপরকে যদি সবচেয়ে ভালো মানুষ হিসেবে ভাবতে না পারেন আপনি কখনো সুখী হতে পারবেন না। আমার স্ত্রীর জুড়ি নেই সব পুরুষেরই এমনটা ভাবা উচিত। একইভাবে প্রত্যেকটা স্ত্রীর ভাবা উচিত- আমার স্বামী হচ্ছেন পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালো মানুষ।
দাম্পত্য জীবনে দুরত্ব সৃষ্টি করবে, এমন কোন নেতিবাচক আবেগ কারো কাম্য নয়। তাই আসুন এই মধুময় সর্ম্পকগুলো যেন নিজ নিজ সৌর্ন্দযে অটুট থাকে সে জন্যে সচেতন হই। মানবিক আবেগকে জাগ্রত করে গড়ে তুলি শান্তি সুখের নীড়।